Ononto Prem – Rabindranath Tagore Poems অনন্ত প্রেম

Ononto Prem by  Rabindranath Tagore Poem.অনন্ত প্রেম Bangla kobita.Rabindranath Thakurer lekha ek onobodyo premer kobita Ononto Prem.

Ononto Prem
Ononto Prem

অনন্ত প্রেম ভুমিকা:- 

বাংলা কবিতা বলতে বাঙালি পাঠক হৃদয়ে যে নাম টি আসে তা অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একাধারে যেমন তিনি অসংখ্য কবিতা লিখে গেছেন তেমন ই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যান্য দিকগুলি যেমন ছোট গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ লেখার বিষয়ে তাঁর জুরি মেলা ভার।বাঙালি পাঠক কুলের প্রতিটি মনে রবীন্দ্রনাথ একটা বিশাল জায়গা দখল করে রেখেছে।নতুন যুগলের প্রেম শুরু হয় রবীন্দ্রনাথ এর প্রেমের কবিতা দিয়ে আবার বিরহের দিন গুলি কাটে রবীন্দ্রনাথ এর গান শুনে।ঠাকুর পরিবারের জন্ম গ্রহন করা এই ব্যক্তি আমাদের মনে বোধহয় আদি অনন্ত কাল বেচে থাকবেন তাঁর করা মধুর সৃষ্টির মাধ্যমে।আজ আপনাদের জন্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অন্যবদ্য প্রেমের কবিতা অনন্ত প্রেম। 

                       অনন্ত প্রেম

            রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর         

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার|
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার-
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার|

যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতি পুরাতন বিরহমিলন কথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমিররজনী ভেদিয়া তোমারি মুরতি এসে
চিরস্মৃতিময়ী ধ্রুবতারকার বেশে|

আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগলপ্রেমের স্রোতে
অনাদিকালের হৃদয়উৎস হতে|
আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা কোটি প্রেমিকের মাঝে
 বিরহবিধুর নয়নসলিলে, মিলন মধুর লাজে-
প্রেম নিত্য নতুন সাজে|

আজি সেই চিরদিবসের প্রেম অবসান লভিয়াছে,
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে|
নিখিলের সুখ নিখিলের দুখ, নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে সকল প্রেমের স্মৃতি-
সকল কালের সকল কবির গীতি|

আরও পড়ুন 

সারমর্ম (অনন্ত প্রেম):-

এই কবিতা টি মানসী নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।কবিতা তির সারমর্মে যাবার আগে একটু জেনে নিই কবিতা টি তিনি কন পটভূমিকা তে লিখেছিলেন।

বাল্যকাল থেকে পশ্চিম-ভারত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে রোম্যাণ্টিক কল্পনার বিষয় ছিল। এইখানেই তিনি বিদেশীয়দের সঙ্গে এ দেশের সংযোগ সংযোগস্থল বলে মনে করতেন।মানসী তে উল্লেখিত কথা অনুযায়ী, বহুশতাব্দী ধরে এইখানেই ইতিহাসের বিপুল পটভূমিকায় বহু সাম্রাজ্যের উত্থানপতন এবং নব নব ঐশ্বর্যের বিকাশ ঘটে ।প্রকৃতির বিচিত্র রুপ আর বর্ণের ছবির ধারা অঙ্কিত করে চলেছে বলে তাঁর ধারনা। এই সময় তিনি পাড়ি দেন তৎকালীন গাজীপুরে।এত দেশ থাকতে কেন যে গাজিপুর বেছে নিয়েছিলুম তার দুটো কারণ আছে।গাজিপুরে গোলাপের রবীন্দ্রনাথ কে খুবই আকর্শণ করতো । সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন ব্যাবসাদারের গোলাপের খেত, এখানে বুলবুলের আমন্ত্রণ নেই, কবিরও নেই; হারিয়ে গেল সেই ছবি। অপর পক্ষে, গাজিপুরে মহিমাম্বিত প্রাচীন ইতিহাসের স্বাক্ষর কোথাও বড়ো রেখায় ছাপ দেয় নি।এরম হবে হয়ত তিনি আশা করেননি। রবীন্দ্রনাথের চোখে এর চেহারা সাদা-কাপড়-পরা বিধবার মতো বলে মনে হয়েছিল বলে মানসী তে তিনি উল্লেখ করেন।

ই কবিতায় কবি তাঁর প্রেমে আবেগ কে এক অনন্য রুপ দিয়েছেন।কখন তিনি বলতে চেয়েছেন প্রকৃতির অনন্য রুপের কথা যুগ যুগ ধরে তাঁর রুপ যেন প্রেমের মোহে মুগ্ধ করেছে।প্রতিবার কতই না উপহার নিয়ে এসেছে বিভিন্ন রুপে বিভিন্ন মায়াতে।অন্যদিকে প্রাচীন কালে ঘটে যাওয়া দুঃখের ইতিহাস গুলিও কবির কাছে সমান গুরুত্ব পেয়েছে।হয়ত সেই প্রতিটি ইতিহাস নতুন কোনও প্রেক্ষাপট তৈরি করে তাঁর ব্যাথা র দুঃখের কাহিনী গুলি উজাড় করে দেবে।উত্তর আকাশে জ্বলতে থাকা ধ্রুবতারা তাঁর এ বার্তা বহন করে চলেছে।কিন্তু এরই মাঝে কবি প্রেমে কে এক অনন্ত রুপ দিইয়েছেন যার কোনও শেষ নেই। ইতিহাস বদলায় সময় বদলায় কিন্তু প্রেমে কখন শেষ হয় না আদি অনন্ত কাল ধরে তা স্থায়ী, হয়ত তা প্রকাশ পায় বিভিন্ন রুপে।এই প্রেমের টানেই কতো মানুষ কবি হতে চেয়েছেন। প্রেমের মধুর বানী গুলি খোদাই করেছেন তাঁদের হৃদয়ের খাতায়।

★অনন্ত প্রেম কবিতাটির আবৃতি পাঠ শোনার জন্য এখানে দেখুন :-

  • হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল 
  • ১৩৩৩
  • ইচ্ছে ছিলো
  • অগ্ন্যুৎসব
  • আরশি
  • পূজারিণী
  • আমি যদি হতাম
  • কৃষ্ণকলি
  • কেউ কথা রাখেনি
      To Read More Rabindranath Tagore Poems Visit the following Links.
    শেয়ার করুন : -

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *